What is in this article?
- ১৯৬৫ সালের মুহাম্মদ আলী বনাম সনি লিস্টন: এক রাউন্ডের রিংয়ের কিংবদন্তী
- সেই কিংবদন্তী ছবির জন্ম: নিল লাইফারের লেন্স
- ফ্যান্টম পাঞ্চ এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগ
- প্রথম লড়াই এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
- ছবির দীর্ঘ যাত্রা: তাৎক্ষণিকতা থেকে কিংবদন্তী
- আজকের সার্চ ট্রেন্ড এবং প্রাসঙ্গিকতা
- প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
১৯৬৫ সালের মুহাম্মদ আলী বনাম সনি লিস্টন: এক রাউন্ডের রিংয়ের কিংবদন্তী
২৫শে মে, ১৯৬৫। মেইন রাজ্যের লুইস্টন শহরের একটি সাধারণ हॉकी রিঙ্ক সেদিন পরিণত হয়েছিল বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিংয়ের ময়দানে। মাত্র চার হাজারের কিছু বেশি দর্শক সাক্ষী ছিলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। এই ম্যাচে মুহাম্মদ আলী, মাত্র ২৩ বছর বয়সে, তার বিশ্ব হেভিওয়েট খেতাব রক্ষা করছিলেন সনি লিস্টনের বিরুদ্ধে। এর এক বছর আগেই, মিয়ামিতে, লিস্টন এই আলীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু লুইস্টনের সেই রাত ছিল অন্যরকম। মাত্র ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের মাথায় খেলা শেষ হয়ে যায়। সনি লিস্টন মাটিতে পড়ে যান এবং আলী তার উপর দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন। মুহাম্মদ আলী বনাম সনি লিস্টন ১৯৬৫-এর সেই বিখ্যাত ছবিটি এই মুহূর্তেরই প্রতিচ্ছবি – আলী দাঁড়িয়ে, লিস্টন মাটিতে, এবং আলীর বিজয়ী উল্লাস।
সেই কিংবদন্তী ছবির জন্ম: নিল লাইফারের লেন্স

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন তরুণ স্পোর্টস ফটোগ্রাফার নিল লাইফার, যিনি তখন মাত্র ২২ বছর বয়সী এবং ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’-এর জন্য ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছিলেন। রিংয়ের পাশে তার দুটি ক্যামেরা ছিল, যার একটিতে ছিল রঙিন ফিল্ম। জন রুনি (AP) প্রায় একই কোণ থেকে একটি সাদাকালো ছবি তুলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে লাইফারের তোলা ছবিটিই বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ প্রথমদিকে লাইফারের এই ছবিটি তাদের কভারের জন্য ব্যবহার করেনি। কিন্তু বছরের পর বছর পর, এই ছবিটিই ‘সর্বকালের সেরা ক্রীড়া ছবি’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
ফ্যান্টম পাঞ্চ এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগ
ম্যাচের পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আলী ঠিক কোন পাঞ্চে লিস্টনকে ফেলে দিয়েছিলেন? অনেকেই এই পাঞ্চকে ‘ফ্যান্টম পাঞ্চ’ বলে অভিহিত করেন, কারণ এটি অনেকের কাছেই স্পষ্ট ছিল না। এই অস্পষ্টতার কারণে অনেকেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগও তোলেন। তবে নিল লাইফার পরবর্তীকালে বারবার বলেছেন যে, আলী একটি পাঞ্চ মেরেছিলেন, কিন্তু সেটি কতটা স্পষ্টভাবে লেগেছিল বা তার প্রভাব কতটা ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। রেফারি আলী-কে তার কোণায় ফিরে যেতে বললেও, আলী সেখানে যাননি। লিস্টন কাউন্টআউটে হেরে যান এবং প্রায় দুই মিনিটের মাথায় ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বলে ঘোষিত হয়।
প্রথম লড়াই এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এর আগের লড়াইটি হয়েছিল ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ামিতে। তখন ক্যাসিয়াস ক্লে নামে পরিচিত আলী এই ম্যাচেও আন্ডারডগ ছিলেন এবং সনি লিস্টন ফেভারিট ছিলেন। সেই ম্যাচে অষ্টম রাউন্ডে লিস্টনের টিম তোয়ালে ফেলে দিয়ে হার স্বীকার করে। কিন্তু ১৯৬৫ সালের মধ্যে ক্যাসিয়াস ক্লে-র নাম বদলে মুহাম্মদ আলী হয়ে গিয়েছিল। তিনি ‘নেশন অফ ইসলাম’-এর সদস্য হন এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট হতে থাকে। এই রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বক্সিং রিংয়েও প্রভাব ফেলেছিল। লুইস্টনের মতো একটি ছোট শহরকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ বড় শহরগুলো এই বিতর্কিত ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী ছিল না।
ছবির দীর্ঘ যাত্রা: তাৎক্ষণিকতা থেকে কিংবদন্তী
ম্যাচের রাতে দর্শকরা লড়াই নিয়েই বেশি আলোচনা করছিলেন, ছবির বিষয় নিয়ে নয়। লাইফারের তোলা ছবিটি প্রথমে ম্যাগাজিনের সংগ্রহে ছিল এবং পরে এটি পোস্টার হিসেবে প্রকাশিত হয়। ধীরে ধীরে এটি শতাব্দীর সেরা ছবির তালিকায় স্থান করে নেয়। ক্রীড়া জগতের ছবি প্রায়শই তাৎক্ষণিক হয়, কিন্তু এই ছবিটি সময়ের সাথে সাথে তার গুরুত্ব এবং খ্যাতি অর্জন করে। সনি লিস্টন ১৯৭০ সালে বক্সিং থেকে অবসর নেন এবং মুহাম্মদ আলী আরও দুই দশক ধরে রিংয়ে রাজত্ব করেন। কিন্তু এই ছবিটি তাদের দুজনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে – একজন দাঁড়িয়ে থাকা চ্যাম্পিয়ন, একজন মাটিতে পড়ে থাকা প্রতিপক্ষ, এবং মাঝখানে এক সেকেন্ডের এক অস্পষ্ট মুহূর্ত, যা নিয়ে আজও আলোচনা হয়। আলী চিৎকার করে লিস্টনকে উঠে লড়াই চালিয়ে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু লিস্টন আর ওঠেননি।
আজকের সার্চ ট্রেন্ড এবং প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমানে, মানুষ যখন ‘Ali vs Liston 1965’ লিখে সার্চ করেন, তখন তারা এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের পাশাপাশি নিল লাইফারের তোলা সেই বিখ্যাত ছবি এবং ‘ফ্যান্টম পাঞ্চ’-এর রহস্য নিয়েও জানতে চান। এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মেইন-এর সেই ছোট শহরের একটি বক্সিং রিং। আমরা এখানে সেই লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করছি, কিন্তু কপিরাইটযুক্ত ছবির অনুকরণ করছি না। লড়াইটি হয়তো সংক্ষিপ্ত ছিল, কিন্তু এর ছবি এবং এর পেছনের গল্প আজও দীর্ঘ এবং প্রাসঙ্গিক।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
প্রশ্ন ১: মুহাম্মদ আলী বনাম সনি লিস্টন ১৯৬৫ সালের ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: এই ম্যাচটি মেইন রাজ্যের লুইস্টন শহরের একটি সাধারণ हॉकी রিঙ্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ২: ম্যাচটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল?
উত্তর: ম্যাচটি মাত্র ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল, যা প্রথম রাউন্ডেই শেষ হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৩: ‘ফ্যান্টম পাঞ্চ’ বলতে কী বোঝানো হয়?
উত্তর: ‘ফ্যান্টম পাঞ্চ’ বলতে সেই পাঞ্চকে বোঝানো হয় যা মুহাম্মদ আলী সনি লিস্টনকে মেরেছিলেন বলে মনে করা হয়। পাঞ্চটি এতটাই দ্রুত এবং অস্পষ্ট ছিল যে অনেকেই এটি দেখতে পাননি বা এর প্রভাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যা ফিক্সিংয়ের অভিযোগকেও উস্কে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ৪: নিল লাইফারের তোলা বিখ্যাত ছবিটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: নিল লাইফারের তোলা ছবিটি বক্সিং ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক ছবি। এটি মুহাম্মদ আলীর বিজয় এবং সনি লিস্টনের পতনকে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরেছে, যা ক্রীড়া ফটোগ্রাফির ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
প্রশ্ন ৫: আলী এবং লিস্টনের প্রথম লড়াই কবে এবং কোথায় হয়েছিল?
উত্তর: আলী এবং লিস্টনের প্রথম লড়াই হয়েছিল ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ামিতে। তখন আলী ক্যাসিয়াস ক্লে নামে পরিচিত ছিলেন এবং লিস্টন ফেভারিট ছিলেন।
এই লড়াই এবং এর সাথে জড়িত কিংবদন্তী ছবিটি বক্সিংয়ের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, যা ক্রীড়া এবং ফটোগ্রাফির এক অসাধারণ মেলবন্ধন।

Share Your Opinion
Comments are closed on this post.