উকডিचे मोदक কী এবং কেন এটি এত বিশেষ?
উকডিचे मोदक হলো মহারাষ্ট্রের এক জনপ্রিয় স্টিমড (ভাপে তৈরি) মিষ্টি। এর বাইরের নরম আস্তরণটি চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় এবং ভেতরের পুরটি সাধারণত নারকেল ও গুড় দিয়ে বানানো হয়। ভাজা মোদকের তুলনায় এটি অনেক হালকা, নরম এবং প্রসাদ হিসেবে এটি বেশি সমাদৃত। নামের ‘উকড’ অংশটির অর্থ হলো গরম জল দিয়ে মাখা আটা। এই পদ্ধতিতেই আটা ইলাস্টিক বা স্থিতিস্থাপক হয়, যা মোদকের বাইরের স্তরকে মসৃণ ও ফাটাবিহীন রাখতে সাহায্য করে।
অনেকেই বাড়িতে মোদক বানাতে গিয়ে কিছু সাধারণ সমস্যায় পড়েন, যেমন – আটা বেশি শুকনো হয়ে যাওয়া, পুর বেশি নরম বা গরম থাকা, অথবা মোদক বানানোর পর পরই স্টিম করা। এই সমস্যাগুলো এড়াতে পারলে আপনার মোদকও হবে নিখুঁত।
উপকরণ (২১টি মোদকের জন্য)

পরতের জন্য (উকডचे पीठ):
- মিহি চালের গুঁড়ো: ২ কাপ (প্রায় ২৪০-২৫০ গ্রাম)
- জল: ২ কাপ (প্রয়োজনে সামান্য কম বা বেশি লাগতে পারে)
- ঘি: ১ টেবিল চামচ (আটার জন্য) + গ্রিজ করার জন্য সামান্য
- লবণ: ১ চিমটি
- ঐচ্ছিক: ১-২ চা চামচ দুধ (যদি আটা বেশি শক্ত মনে হয়)
পুরের জন্য (सरण/নারকেল-গুড়):
- তাজা নারকেল কোরা: ১½ কাপ
- গুড় (बारीक कटा বা গুঁড়ো): ¾ থেকে ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী)
- ঘি: ১ চা চামচ
- এলাচ গুঁড়ো: ½ চা চামচ
- ঐচ্ছিক: খসখস (পোস্ত দানা) ১ চা চামচ, কিশমিশ ৮-১০টি, কাজু কুচি
স্টিমিংয়ের জন্য:
- ইডলি/মোদক স্টিমার বা মোটা তলার কড়াই ও ঝাঁঝরি
- কলা পাতা/বেকিং পেপার বা সামান্য তেল (গ্রিজ করার জন্য)
নারকেল-গুড়ের পুর তৈরির পদ্ধতি
মোদকের পুরটি অবশ্যই ঠান্ডা হতে হবে। গরম পুর ব্যবহার করলে চালের আটার স্তর নরম হয়ে ফেটে যেতে পারে।
- একটি কড়াইতে ১ চা চামচ ঘি গরম করুন।
- নারকেল কোরা দিয়ে ১-২ মিনিট হালকা ভাজুন। খেয়াল রাখবেন যেন নারকেলের রঙ বেশি গাঢ় না হয়ে যায়, শুধু সুন্দর গন্ধ বেরোলেই হবে।
- এবার গুড় দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না গুড় গলে নারকেলের সাথে মিশে যায় এবং মিশ্রণটি একটু ঘন হয়ে আসে। যদি গুড় বেশি নরম হয়, তবে আরও ১-২ মিনিট রান্না করে জলীয় ভাব কমিয়ে নিন।
- এলাচ গুঁড়ো, খসখস, কিশমিশ বা কাজু কুচি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
- গ্যাস বন্ধ করে পুরটি একটি পাত্রে ঢেলে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন।
- ঠান্ডা হয়ে গেলে পুর থেকে ছোট ছোট ২১টি বল তৈরি করে নিন। প্রতিটি বল প্রায় ১ চা চামচ পরিমাণ হবে। এতে মোদক বানানোর সময় সুবিধা হবে।
টিপস: যদি পুর বেশি নরম মনে হয়, তবে সামান্য ভাজা নারকেল মেশাতে পারেন। আর যদি বেশি শুকনো লাগে, তবে আধ চা চামচ ঘি বা এক চিমটি দুধ মেশাতে পারেন। তবে পুর যেন কোনোভাবেই বেশি নরম বা জলীয় না হয়।
চালের আটার স্তর তৈরির সঠিক পদ্ধতি

এই ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জল ও চালের গুঁড়োর সঠিক অনুপাত না হলে মোদকের স্তর ফেটে যেতে পারে।
- একটি মোটা তলার পাত্রে ২ কাপ জল, ১ টেবিল চামচ ঘি এবং ১ চিমটি লবণ দিয়ে ফুটিয়ে নিন।
- জল ফুটে উঠলে আঁচ একদম কমিয়ে দিন।
- এবার একবারে সব চালের গুঁড়ো দিয়ে দিন এবং একটি চামচ বা স্প্যাচুলা দিয়ে দ্রুত মেশাতে থাকুন যাতে কোনো দলা না থাকে।
- পাত্রটি ঢাকা দিয়ে ১-২ মিনিট একদম কম আঁচে রাখুন। চালের গুঁড়ো যেন ভাপে সেদ্ধ হয়ে যায়।
- গ্যাস বন্ধ করে দিন। মিশ্রণটি একটু ঠান্ডা হতে দিন, যাতে হাতে সহনীয় হয়।
- এবার হাতে সামান্য ঘি মেখে বা ভেজা হাতে ভালো করে মথে নিন যতক্ষণ না একটি মসৃণ, নরম ও স্থিতিস্থাপক মণ্ড তৈরি হয়। মণ্ডটি যেন বেশি আঠালো বা বেশি শক্ত না হয়।
- মণ্ডটি একটি ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে ৫-৮ মিনিট রেখে দিন। খোলা রাখলে উপরের অংশ শুকিয়ে ফেটে যেতে পারে।
পরীক্ষা: মণ্ড থেকে একটি ছোট লেচি নিয়ে আঙুল দিয়ে পাতলা করে ছড়িয়ে দেখুন। যদি ধারগুলো ফেটে যায়, তবে সামান্য গরম জল বা দুধ ছিটিয়ে দিয়ে আবার একটু মেখে নিন। যদি হাতে লেগে যায়, তবে সামান্য চালের গুঁড়ো দিয়ে মাখতে পারেন, কিন্তু খুব বেশি নয়।
২১টি মোদক তৈরির সহজ পদ্ধতি
তৈরি করা মণ্ডটি ২১টি সমান ভাগে ভাগ করে নিন। প্রতিটি ভাগ হাতের তালুতে গোল করে নিন।
- গোল করা লেচিটিকে হাতের তালুতে রেখে আঙুল দিয়ে চেপে চেপে একটি বাটির আকার দিন। খেয়াল রাখবেন, মাঝখানটা যেন একটু মোটা থাকে এবং ধারগুলো পাতলা হয়। ধার বেশি পাতলা হলে ফেটে যেতে পারে, আবার বেশি মোটা হলে কাঁচা থেকে যেতে পারে।
- মাঝখানে পুরের একটি বল রাখুন।
- এবার বাটির ধারগুলো সাবধানে উপরের দিকে এনে পুরটিকে ঢেকে দিন।
- এবার আঙুল দিয়ে চেপে চেপে সুন্দর প্লেট বা ভাঁজ (प्लीट्स) তৈরি করুন।
- উপরের অংশটি হালকা চেপে বন্ধ করে দিন।
- যদি মোদকের ছাঁচ (mold) ব্যবহার করেন, তবে ছাঁচের ভেতরে সামান্য ঘি লাগিয়ে লেচিটি বসিয়ে পুর ভরে বন্ধ করে দিন। এটি নতুনদের জন্য সহজ।
- হাত দিয়ে বানালে তাড়াহুড়ো করবেন না। প্রতিটি মোদক তৈরি হয়ে গেলে ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
টিপস: গণেশ পুজোর জন্য সাধারণত ২১টি মোদক তৈরি করা হয়। তাই একবারে ২১টি বানানোর চেষ্টা করুন। কিছু অতিরিক্ত মণ্ড দিয়ে ১-২টি ‘টেস্ট মোদক’ বানিয়ে নিতে পারেন, যা স্টিম করার সময় পরীক্ষা করে দেখা যাবে।
মোদক ফাটাবিহীন রাখার সহজ টিপস
এই টিপসগুলো মেনে চললে মোদক ফাটার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে:
- পুর সম্পূর্ণ ঠান্ডা করুন: গরম পুর আস্তরণকে দুর্বল করে দেয়।
- আটা সবসময় ঢেকে রাখুন: শুকনো আটা ফেটে যায়।
- জল ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন: মোদক সবসময় ভালোভাবে ভাপ ওঠা স্টিমারে বসান। ঠান্ডা বা কম ভাপে বসালে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- বেশি পুর ভরবেন না: বেশি পুর ভরলে বন্ধ করার সময় চাপ লেগে ফেটে যেতে পারে।
- ভালোভাবে বন্ধ করুন: উপরের অংশ ও ধারগুলো হালকা জল বা ঘি দিয়ে ভালোভাবে সিল করুন।
- গাদাগাদি করে রাখবেন না: স্টিমারের প্লেটে মোদকগুলো একটু ফাঁকা ফাঁকা করে রাখুন।
- বারবার ঢাকনা খুলবেন না: স্টিমের সময় বারবার ঢাকনা খুললে তাপমাত্রা কমে যায়, যা মোদকের জন্য ক্ষতিকর।
- স্টিম করার পর ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করুন: স্টিম থেকে নামানোর পর সঙ্গে সঙ্গে না তুলে ২-৩ মিনিট রেখে দিলে মোদক সহজে প্লেটে উঠে আসে।
যদি হালকা ফাটল দেখা যায়, তবে চিন্তা করবেন না। অনেক সময় স্টিমের পর তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু বড় ফাটল হলে সেই মোদক প্রসাদের জন্য আলাদা রাখতে পারেন, স্বাদে কোনো পার্থক্য হবে না।
স্টিমিং টাইম ও পরিবেশন
- স্টিমারের প্লেটে কলা পাতা, বেকিং পেপার বিছিয়ে নিন অথবা সামান্য ঘি/তেল দিয়ে গ্রিজ করে নিন।
- এবার তৈরি মোদকগুলো প্লেটে সাজিয়ে দিন।
- ভালোভাবে ভাপ ওঠা স্টিমারে বসিয়ে দিন এবং ঢাকনা বন্ধ করুন।
- স্টিমিং টাইম: প্রায় ১২-১৫ মিনিট (স্টিমার ও মোদকের আকারের উপর নির্ভর করে)।
- মোদকের উপর হালকা আভা এলে এবং স্তরটি স্বচ্ছ ও নরম দেখালে বুঝবেন হয়ে গেছে।
- একটি ‘টেস্ট মোদক’ ভেঙে দেখে নিন – ভেতরের পুর গরম এবং আস্তরণ সেদ্ধ হওয়া উচিত।
- স্টিম থেকে নামিয়ে ২-৩ মিনিট পর সাবধানে প্লেটে তুলে নিন।
- উপরে সামান্য ঘি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন।
গরম গরম উকডিचे मोदक প্রসাদ হিসেবে সবচেয়ে ভালো লাগে। বেঁচে গেলে এয়ারটাইট কন্টেইনারে ফ্রিজে রাখুন। খাওয়ার আগে হালকা ভাপে গরম করে নিন। মাইক্রোওয়েভে বেশি সময় রাখলে আস্তরণ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (FACT BOX)
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: উকডিचे मोदक ফেটে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ‘শুকনো আটা + গরম/নরম পুর + কম ভাপ’-এর সমন্বয়। আটা সবসময় ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন, পুর ঠান্ডা রাখুন এবং মোদক সবসময় ভালোভাবে ভাপ ওঠা স্টিমারে বসান। ২১টি মোদকের জন্য আগে থেকে আটা ও পুর সমান ভাগে ভাগ করে নিলে মোদক বানানোর সময় সুবিধা হবে এবং সবকটি মোদকের আকার একই রকম হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: চালের গুঁড়োর বদলে গমের আটা ব্যবহার করা যাবে?
না, ঐতিহ্যবাহী উকডিचे मोदक সবসময় চালের গুঁড়ো দিয়েই তৈরি হয়। গমের আটা ব্যবহার করলে এর গঠন ও স্বাদ দুটোই বদলে যাবে।
প্রশ্ন ২: গুড়ের পরিবর্তে চিনি ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ, অনেক বাড়িতে চিনির পুর দিয়েও মোদক তৈরি করা হয়। তবে সেক্ষেত্রে মিষ্টির পরিমাণ ও রঙ কিছুটা ভিন্ন হবে। বাকি পদ্ধতি একই থাকবে।
প্রশ্ন ৩: মোদক স্টিমারে আটকে যায় কেন?
স্টিমারের প্লেট ঠিকমতো গ্রিজ করা না হলে, ভাপ কম থাকলে, অথবা মোদকগুলো খুব কাছাকাছি রাখলে এমন হতে পারে। প্লেট গ্রিজ করা এবং মোদকগুলোর মধ্যে সামান্য ফাঁকা রাখা জরুরি।
প্রশ্ন ৪: কতদিন আগে মোদক বানিয়ে রাখা যায়?
তাজা মোদক সবচেয়ে ভালো লাগে। তবে প্রয়োজন হলে একদিন আগে বানিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন এবং প্রসাদের আগে হালকা ভাপে গরম করে নিন।
প্রশ্ন ৫: মোদকের আস্তরণ বারবার ফেটে গেলে কী করব?
আটার মণ্ডে সামান্য গরম জল মিশিয়ে আবার ভালো করে মেখে নিন এবং কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। পুরের আর্দ্রতাও পরীক্ষা করুন। উপরে দেওয়া ‘মোদক ফাটাবিহীন রাখার সহজ টিপস’গুলো অনুসরণ করুন।
প্রশ্ন ৬: গণেশ প্রতিষ্ঠার কতক্ষণ আগে মোদক তৈরি করা উচিত?
যতটা সম্ভব প্রসাদের সময়ের কাছাকাছি তৈরি করলে মোদকের স্বাদ ও নরম ভাব বজায় থাকে।
গণপতি বাপ্পা মোরিয়া!