হরতাళিকা तीज: কেন এবং কীভাবে পালন করা হয়?
হরতাళিকা तीज হিন্দু ধর্মের একটি বিশেষ ব্রত, যা মূলত বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সৌভাগ্য কামনায় পালন করেন। অবিবাহিত নারীরাও কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী লাভের আশায় এই ব্রত রাখেন। এটি ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর পবিত্র বন্ধন ও পার্বতীর কঠোর তপস্যার প্রতীক। ‘হরতাళিকা’ শব্দটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: ‘হরত’ (हरण করা) এবং ‘আলিকা’ (সখী)। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী পার্বতীর সখীরা তাঁকে তাঁর পিতার বাড়ি থেকে লুকিয়ে এক গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে তাঁর বিবাহ ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে না হয়ে কঠোর তপস্যার মাধ্যমে ভগবান শিবের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। এই ব্রতটি প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয়। এই দিনে মহিলারা নির্জলা উপবাস করেন এবং সন্ধ্যায় ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর বিশেষ পুজো করেন।
হরতাళিকা तीज ব্রতের মাহাত্ম্য
হিন্দু ধর্মে হরতাళিকা तीज ব্রতকে অত্যন্ত পুণ্যময় বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই ব্রত পালনের মাধ্যমে মহিলারা অক্ষয় सौभाग्य লাভ করেন এবং তাঁদের বৈবাহিক জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। স্বামীর দীর্ঘায়ুও এই ব্রতের অন্যতম ফল। অবিবাহিত নারীরাও এই ব্রত রেখে যোগ্য ও মনমতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার প্রার্থনা করেন। এই ব্রত ত্যাগ, तपस्या এবং প্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর অমর প্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সঠিক নিয়ম মেনে পুজো করলে, দেব-দেবী প্রসন্ন হয়ে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
হরতাళিকা तीजের ব্রতকথা
হরতাళিকা तीजের ব্রতকথা ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর প্রেম এবং পার্বতীর কঠোর তপস্যার সঙ্গে জড়িত। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবী পার্বতী (যিনি পূর্বে সতী নামে পরিচিত ছিলেন) ভগবান শিবকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য বহু বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাঁর পিতা, হিমালয় রাজ, তাঁর বিবাহ ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে স্থির করেন। এই সিদ্ধান্তে পার্বতী অত্যন্ত দুঃখিত হন। তাঁর সখীর পরামর্শে, তিনি এই বিবাহ এড়াতে এক গভীর জঙ্গলে চলে যান। সেখানে তিনি বালু দিয়ে শিবলিঙ্গ তৈরি করে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তিনি জল ও অন্ন ত্যাগ করে কেবল পাতা খেয়ে জীবনধারণ করতেন। তাঁর এই কঠোর তপস্যায় ভগবান শিব অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং তাঁকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেন। যেহেতু পার্বতীর সখীরা তাঁকে তাঁর পিতার বাড়ি থেকে হরণ করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাই এই ব্রতের নাম হয় ‘হরতাళিকা तीज’। এই ব্রত পালনের সময় এই কাহিনী শ্রবণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, কারণ এটি ত্যাগ ও প্রেমের গভীর বার্তা বহন করে।
হরতাళিকা तीज পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী
হরতাళিকা तीजের পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। পুজোর আগে এই জিনিসগুলি সংগ্রহ করে রাখা ভালো:
- দেবদেবীর মূর্তি: ভগবান শিব, দেবী পার্বতী এবং ভগবান গণেশের মূর্তি (সাধারণত মাটি বা বালি দিয়ে তৈরি করা হয়)।
- পুজোর স্থান সজ্জার জন্য: একটি পরিষ্কার চৌকি বা পিঁড়ি, লাল বা হলুদ রঙের বস্ত্র, কলাপাতা (मंडপ সজ্জার জন্য)।
- জল ও অন্যান্য উপকরণ: একটি কলস (জল ভর্তি), নারকেল, পান পাতা, सुपारी, অক্ষত (চাল), সিঁদুর (কুমকুম), চন্দন, ধূপ, দীপ (ঘি-এর প্রদীপ), কর্পূর, দেশলাই, গঙ্গাজল (যদি থাকে), পরিষ্কার জল।
- ফুল ও পাতা: বেলপাতা, দূর্বা ঘাস, শমী পাতা, আকন্দ ফুল, ধুতরো ফুল ও ফল, গাঁদা ফুল এবং অন্যান্য মরসুমি ফুল।
- নৈবেদ্য ও ফল: বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি (যেমন – লাড্ডু, পেঁড়া), পাঁচ প্রকার ফল, শুকনো ফল, মধু, ঘি, পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু ও গঙ্গাজলের মিশ্রণ)।
- সৌভাগ্য সামগ্রী (দেবী পার্বতীর জন্য): লাল শাড়ি বা ওড়না, বিন্দি, সিঁদুর, আলতা, চুড়ি, মেহেদি, काजल, চিরুনি, ইত্র।
- অন্যান্য: পৈতে (ভগবান শিবের জন্য), বস্ত্র (ভগবান শিবের জন্য), দক্ষিণা (দান করার জন্য মুদ্রা)।
হরতাళিকা तीजের সম্পূর্ণ পুজো পদ্ধতি
হরতাళিকা तीजের পুজো সাধারণত সন্ধ্যায় বা প্রদোষ কালে করা হয়। এই পুজো ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে করা উচিত।
১. সকালের প্রস্তুতি ও সংকল্প
ব্রতের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন। সারাদিন নির্জলা থাকার সংকল্প নিন এবং ভক্তি সহকারে ব্রত পালনের মনস্থির করুন।
২. পুজো স্থানের প্রস্তুতি
বাড়ির একটি পবিত্র স্থানে পুজো করার জন্য একটি চৌকি বা পিঁড়ি স্থাপন করুন। এর উপর একটি পরিষ্কার লাল বা হলুদ বস্ত্র বিছিয়ে দিন। কলাপাতা দিয়ে একটি ছোট মণ্ডপ তৈরি করে বা সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিন।
৩. দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন
পরিষ্কার মাটি বা বালি দিয়ে ভগবান শিব, দেবী পার্বতী এবং ভগবান গণেশের মূর্তি তৈরি করুন। এই মূর্তিগুলি পুজো মণ্ডপে স্থাপন করুন।
৪. গণেশের পুজো
যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে ভগবান গণেশের পুজো করা হয়। তাই প্রথমে গণেশের আবাহন করুন। তাঁকে জল, ফুল, দূর্বা এবং লাড্ডু অর্পণ করুন।
৫. শিব-পার্বতীর পুজো
- আবাহন: ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর ধ্যান করে তাঁদের আবাহন করুন।
- আসন: তাঁদের আসনে বসার জন্য মনে মনে প্রার্থনা করুন।
- স্নান: মূর্তিগুলিকে পরিষ্কার জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করান।
- বস্ত্র ও অলঙ্কার: ভগবান শিবকে বস্ত্র ও পৈতে অর্পণ করুন। দেবী পার্বতীকে सोलহ শৃঙ্গারের সামগ্রী (যেমন – শাড়ি, সিঁদুর, চুড়ি, মেহেদি ইত্যাদি) অর্পণ করুন।
- ফুল ও পাতা: ভগবান শিবকে বেলপাতা, ধুতরো ফুল, আকন্দ ফুল ও শমী পাতা অর্পণ করুন। দেবী পার্বতীকে লাল ও সুগন্ধি ফুল অর্পণ করুন। দূর্বা ও অক্ষতও নিবেদন করুন।
- ধূপ-দীপ ও নৈবেদ্য: ধূপ জ্বালিয়ে দিন এবং ঘি-এর প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করুন। ফল, মিষ্টি, মধু ও অন্যান্য নৈবেদ্য অর্পণ করুন।
- মন্ত্র জপ: ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এবং ‘ওঁ উমা-মহেশ্বরভ্যাং নমঃ’ মন্ত্র জপ করুন।
- ব্রতকথা শ্রবণ: হরতাళিকা तीजের ব্রতকথা শুনুন বা পাঠ করুন।
- আরতি: সবশেষে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আরতি করুন। ‘জয় শিব ওঁকারা’ বা ‘জয় আম্বে গৌরী’ আরতি গাওয়া যেতে পারে। আরতির পর কর্পূর জ্বালিয়ে দিন।
- প্রদক্ষিণা: সম্ভব হলে মূর্তিগুলির চারপাশে পরিক্রমা করুন।
- ক্ষমা প্রার্থনা: পুজোর কোনো ত্রুটির জন্য দেবদেবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
৬. রাত্রি জাগরণ
অনেক স্থানে হরতাళিকা तीजের রাতে মহিলারা জাগরণ করেন। এই সময় ভজন-কীর্তন ও গল্প শোনা হয়।
৭. পরদিন ব্রত ভঙ্গ (পারন)
পরদিন সকালে স্নান সেরে দেবদেবীর পুজো করুন। এরপর মূর্তিগুলি কোনো পবিত্র নদী বা জলাশয়ে বিসর্জন দিন। এরপর জল ও মিষ্টি খেয়ে ব্রত ভঙ্গ করুন। ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো বা দান-দক্ষিণা দেওয়া শুভ বলে মনে করা হয়।
হরতাళিকা तीज ব্রতের নিয়ম ও সতর্কতা
- এই ব্রত সাধারণত নির্জলা রাখা হয়, অর্থাৎ সারাদিন জল ও খাবার গ্রহণ করা হয় না।
- ব্রত চলাকালীন ক্রোধ, খারাপ কথা বলা বা নিন্দা করা থেকে বিরত থাকুন। মনকে শান্ত ও পবিত্র রাখুন।
- রাত্রি জাগরণ করা উচিত, তাই রাতে ঘুমানো উচিত নয়।
- পরদিন মূর্তি বিসর্জন দেওয়ার আগে সেগুলির পুজো করা আবশ্যক।
- পরদিন শুভ সময়ে ব্রত ভঙ্গ করুন।
উপসংহার
হরতাళিকা तीजের ব্রত কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার প্রেম, ত্যাগ এবং অটুট বিশ্বাসের প্রতীক। সঠিক নিয়ম ও ভক্তি সহকারে এই ব্রত পালন করলে এবং শিব-পার্বতীর পুজো করলে अखंड सौभाग्य, সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। এই ব্রত আমাদের শেখায় যে, কঠোর तपस्या ও নিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
হরতাళিকা तीज সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন
প্রশ্ন: হরতাళিকা तीज কেন পালন করা হয়?
উত্তর: হরতাళিকা तीज মূলত বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সৌভাগ্য কামনায় পালন করেন। এটি ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর পবিত্র বন্ধন এবং দেবী পার্বতীর কঠোর तपস্যার স্মরণে পালিত হয়।
প্রশ্ন: হরতাళিকা तीज ব্রত কি শুধু বিবাহিত মহিলারাই রাখেন?
উত্তর: প্রধানত বিবাহিত মহিলারা এই ব্রত রাখলেও, অবিবাহিত নারীরাও যোগ্য জীবনসঙ্গী লাভের আশায় এটি পালন করেন।
প্রশ্ন: হরতাళিকা तीज ব্রত কি জল পান করে রাখা যায়?
উত্তর: সাধারণত হরতাళিকা तीज ব্রত নির্জলা রাখা হয়, অর্থাৎ সারাদিন জল ও খাবার গ্রহণ করা হয় না। তবে শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ প্রয়োজনে জল পান করার অনুমতি থাকতে পারে, তবে এটি ব্রতের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রশ্ন: হরতাళিকা तीजের পুজো কখন করা হয়?
উত্তর: হরতাళিকা तीजের পুজো সাধারণত সন্ধ্যায় বা প্রদোষ কালে করা হয়।
প্রশ্ন: হরতাళিকা तीज ব্রত ভঙ্গের নিয়ম কী?
উত্তর: পরের দিন সকালে দেবদেবীর পুজো করার পর, মূর্তি বিসর্জন দিয়ে জল ও মিষ্টি খেয়ে ব্রত ভঙ্গ করা হয়।