লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু রহস্য: সরকারি তথ্য বনাম জনমানসের প্রশ্ন

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর তাসখন্দে মৃত্যু: সরকারি নথি বনাম অমীমাংসিত ময়নাতদন্ত

সরকারি নথি কী বলে?

১১ জানুয়ারি, ১৯৬৬। সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দ শহরে (বর্তমানে উজবেকিস্তান) ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জীবনাবসান হয়। সরকারিভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক। সোভিয়েত ডাক্তার এবং প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডঃ আর. এন. চুগের যৌথ মেডিক্যাল রিপোর্টে এই তথ্যই লিপিবদ্ধ ছিল। পরবর্তীকালে, ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই কারণটিই নিশ্চিত করেন।

विज्ञापन

এটাও প্রমাণিত যে, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী পূর্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর জীবনীকার সি. পি. শ্রীবাস্তব এবং তৎকালীন প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিবরণী অনুযায়ী, ১৯৫৯ সালে একবার এবং জুন ১৯৬৪ সালে আরও একবার তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো এমন ঘটনা চিকিৎসাগতভাবে অসম্ভব না হলেও, এটি রহস্যের জন্ম দেয়।

তবে, এই তথ্যগুলি তাঁর মৃত্যুতে কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা বিষক্রিয়ার তত্ত্বকে প্রমাণ করে না। এমন কোনও ফরেনসিক রিপোর্ট বা আদালতের রায় নেই যা তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে চিহ্নিত করে। ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলি নাটকীয়তা তৈরি করলেও, সেগুলি সরকারি নথির বিকল্প নয়।

তাসখন্দের শেষ রাত: প্রত্যক্ষদর্শী ও বইয়ের বিবরণ

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারি নথি

১৯৬৬ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দে ছিলেন। সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই কোসিগিন ভারত-পাকিস্তান শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিলেন। ১০ জানুয়ারি দুপুরে তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সন্ধ্যায় একটি সোভিয়েত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি তাঁর বাসভবনে ফেরেন।

জীবনী এবং তৎকালীন প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি রাতে হালকা খাবার খান এবং প্রায় ১১:৩০ নাগাদ এক গ্লাস দুধ পান করে বিশ্রামে যান। তাঁর খাদ্যের সঙ্গে মস্কোতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত টি. এন. কাউলের রাঁধুনি জান মোহাম্মদের নাম জড়িয়েছিল। তাঁর ব্যক্তিগত পরিচারক রামনাথ অন্য ঘরে ছিলেন।

প্রায় ১:২০-১:২৫ নাগাদ তিনি তীব্র কাশি অনুভব করেন। পরিবারের পরবর্তীকালের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় তাঁর ঘরে কোনও টেলিফোন বা জরুরি সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। তিনি দরজার কাছে এসে ডাক্তার ডাকতে বলেন। কর্মীরা তাঁকে বিছানায় শুইয়ে দেন। ডঃ চুঘ এসে তাঁর নাড়ি পরীক্ষা করেন – যা দ্রুত ও দুর্বল ছিল, রক্তচাপ মাপা সম্ভব হয়নি এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। সিপিআর (Cardiopulmonary Resuscitation) এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুর সময় নথিভুক্ত করা হয় ১:৩২ মিনিটে।

विज्ञापन

সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ দেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় (embalming) দেহটিকে প্রস্তুত করে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ কুলদীপ নায়ার, শ্রীবাস্তব এবং অন্যান্যদের লেখায় প্রায় একই রকমভাবে বর্ণিত হয়েছে।

১১ জানুয়ারি সকালে সোভিয়েত ইলুশিন বিমানযোগে তাঁর দেহ দিল্লিতে আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোসিগিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর, ১২ জানুয়ারি যমুনা নদীর তীরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যা বর্তমানে বিজয় ঘাট নামে পরিচিত। রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন তাঁর শেষ যাত্রায় অংশ নেন এবং দেশে বারো দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।

সরকারিভাবে নথিভুক্ত তথ্য:

  • মৃত্যুর সময়: ১১ জানুয়ারি ১৯৬৬, তাসখন্দ সময় রাত ১:৩২ মিনিট।
  • কারণ: তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক)।
  • ময়নাতদন্ত: বিদেশ মন্ত্রকের RTI (তথ্য জানার অধিকার) উত্তর অনুযায়ী, সোভিয়েত ইউনিয়নে কোনও ময়নাতদন্ত হয়নি। দিল্লি পুলিশের কাছেও এই সংক্রান্ত কোনও রেকর্ড নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) জানিয়েছে, মৃত্যু সংক্রান্ত একটি নথি ‘শ্রেণীবদ্ধ’ (classified) এবং তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৮(১)(এ) অনুযায়ী প্রকাশযোগ্য নয়।

পোস্টমর্টেম কেন হয়নি? রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু রহস্যের মূল কারণ কোনও ষড়যন্ত্রের গল্প নয়, বরং একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি – তাসখন্দে কোনও মেডিকো-লিগ্যাল পোস্টমর্টেম হয়নি, এবং ভারতেও নয়।

বিদেশ মন্ত্রক RTI-এর উত্তরে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ কোনও ময়নাতদন্ত করেনি। যে নথিটি পাওয়া গেছে, তা হল ডঃ চুঘ এবং সোভিয়েত ডাক্তারদের যৌথ মেডিক্যাল রিপোর্ট। দিল্লি পুলিশ ২০০৯ সালে জানায় যে, প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু সংক্রান্ত কোনও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তাদের কাছে নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছেও এই রিপোর্ট নেই।

শ্রীবাস্তবের মতে, সেই রাতে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি, কারণ শাস্ত্রীর পূর্বে দুটি হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস ছিল এবং ডাক্তারদের মতামতও একই ছিল। তবে, পরিবার পরবর্তীকালে দাবি করে যে তারা তদন্ত চেয়েছিল কিন্তু তা পায়নি। ১৯৭০ সালের সংসদীয় বিতর্কে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী গুলজারিলাল নন্দার কাছে এই তদন্ত চাওয়ার অভিযোগও ওঠে।

विज्ञापन

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি, স্পষ্ট মেডিক্যাল কারণ এবং দেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনের জন্য ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

এখানে দুটি বিষয় একই সাথে সত্য হতে পারে: প্রথমত, ১৯৬৬ সালে একজন হৃদরোগে আক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু বিদেশি মাটিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া দেশে ফিরিয়ে আনা সেই সময়ের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক ছিল না। দ্বিতীয়ত, ময়নাতদন্ত ছাড়া বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই ‘গ্যাপ’ বা ফাঁকটি প্রমাণিত, কিন্তু এর মানে এই নয় যে হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়েছে।

নীল মুখ, কাটা দাগ এবং পরিবারের স্মৃতি

ভারতে দেহ পৌঁছানোর পর শাস্ত্রীর মুখের রঙ এবং কিছু শারীরিক চিহ্ন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। লালিতা শাস্ত্রী এবং তাঁর পুত্র অনিল ও সুনীল শাস্ত্রী বারবার অভিযোগ করেন যে, তাঁর মুখ নীল হয়ে গিয়েছিল, কপালে সাদা দাগ ছিল এবং পেট ও ঘাড়ের পিছনে কাটার চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি, সরকারি ‘হার্ট অ্যাটাক’-এর ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ নয় এবং ফাইলগুলি খোলা উচিত।

১৯৭০ সালে লালিতা দেবী জনসমক্ষে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। অনিল শাস্ত্রী পরবর্তীকালে বলেন যে, মৃত্যু ‘অস্বাভাবিক’ হতে পারে, তবে তিনি সরাসরি বিষক্রিয়ার কথা বলেননি। কিন্তু ফাইল খোলার দাবি পরিবারে প্রায় সর্বসম্মত ছিল।

অন্যদিকে, প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আর. এস. চাড্ডা-র মতো ব্যক্তিরা বলেন যে, এই দাগগুলি দেহ সংরক্ষণের (embalming) প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। শ্রীবাস্তব লিখেছেন যে, মৃত্যুর সময় মুখ স্বাভাবিক রঙের ছিল; নীলচে ভাবটি দেহ সংরক্ষণের পরেই দেখা গিয়েছিল। পেটের কাটা দাগটিকে দেহ সংরক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রবেশ করানোর সরকারি ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ঘাড়ের কাটার দাগ নিয়ে পরিবার এবং কিছু কংগ্রেস কর্মী (যেমন জগদীশ কোদেসিয়া) জোর দেন। সরকার অবশ্য ঘাড়ে কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে। শুধুমাত্র ছবি দেখে বিষক্রিয়া প্রমাণ করা সম্ভব নয়। ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া টিস্যু এবং ভিসেরা (viscera) পরীক্ষার অভাবে এই ধরনের রঙ বা দাগ নিয়ে অনুমান করা কেবলই জল্পনা। পরিবারের তালিকায় কিছু জিনিসপত্রের অনুপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ডায়েরি বা থার্মাস। এগুলি চুরি বা প্রমাণ লোপাটের কোনও আইনি রায় দ্বারা প্রমাণিত হয়নি।

বিষক্রিয়া, রাঁধুনি, সিআইএ – গুজব কতদূর

১১ জানুয়ারি সকালে সোভিয়েত কেজিবি (KGB) তাসখন্দের বাসভবনের ওয়েটার/বাটলার আহমেদ सत्तारোভ এবং কয়েকজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। सत्तारোভ পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, অফিসাররা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর বিষক্রিয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর কোসিগিনের হস্তক্ষেপে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু।

জান মোহাম্মদের নাম পরিবারের সন্দেহের তালিকায় ছিল। কেজিবি-র প্রাথমিক সন্দেহ বিষক্রিয়াকে ‘প্রমাণ’ করে না। সন্দেহ এবং পরবর্তীকালে মুক্তি ও মেডিক্যাল রিপোর্ট – এই পর্যন্তই সরকারিভাবে জানা যায়।

সিআইএ (CIA) জড়িত থাকার তত্ত্বটি ইন্টারনেটে প্রায়শই ঘুরে বেড়ায়, যা অনেক সময় হোমি ভাবার বিমান দুর্ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়। এর ভিত্তি হিসেবে প্রায়শই গ্রেগরি ডগলাস-এর মতো বিতর্কিত ‘সাক্ষাৎকার’-এর সংকলন ব্যবহার করা হয়, যেগুলিকে ইতিহাসবিদরা নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য করেন না। আমেরিকা সরকার এই অভিযোগ স্বীকার করেনি, এবং ভারতীয় আদালতেও এমন কোনও রায় হয়নি। পাকিস্তান বা সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হওয়ার গল্পগুলিও কোনও প্রমাণ ছাড়াই তৈরি হওয়া সময়ের রাজনীতির ফসল।

তাসখন্দে খাবারের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কঠোর নজরদারির যে দাবি सत्तारোভ করেছিলেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ মাত্র, কোনও ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট নয়।

১৯৭৭ সালে জনতা সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ নারায়ণ কমিটির অধীনে একটি সংসদীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই তদন্তের কোনও চূড়ান্ত রিপোর্ট আজও সংসদ গ্রন্থাগারে পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (CIC) পর্যন্ত এই ফাইলগুলি ‘হারিয়ে গেছে’ বলে জানিয়েছে।

একই সময়ে, ডঃ চুঘ একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান; তাঁর পরিচারক রামনাথও একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। এই দুর্ঘটনাগুলি প্রমাণিত, কিন্তু এগুলিকে ‘সাক্ষী লোপাটের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রমাণ করা হয়নি।

তথ্য জানার অধিকার (RTI), CIC এবং সেই বন্ধ ফাইল

২০০৯ সাল থেকে অনুজ ধর সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), বিদেশ মন্ত্রক (MEA), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের কাছে তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেন। প্রাপ্ত উত্তরগুলির ধরণ প্রায় একই ছিল: ময়নাতদন্ত হয়নি; সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যৌথ মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়া গেছে; PMO-র কাছে একটি ‘শ্রেণীবদ্ধ’ নথি রয়েছে যা ধারা ৮(১)(এ) অনুযায়ী প্রকাশ করা সম্ভব নয় – কারণ এটি বৈদেশিক সম্পর্ক, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

২০১৮ সালে, তথ্য কমিশন (CIC) (নবদীপ গুপ্ত মামলা) নির্দেশ দেয় যে, প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য জনগণের জানার অধিকারকে চিরতরে বন্ধ রাখা যায় না। রাজ নারায়ণ কমিটির ফাইল এবং শ্রেণীবদ্ধকরণের কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই নির্দেশের পরেও সম্পূর্ণ নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।

পরিবারের একটি বাস্তবসম্মত দাবি হল ১৯৬৬ সালের বিদেশ মন্ত্রক এবং মস্কো দূতাবাসের মধ্যেকার চিঠিপত্র প্রকাশ করা। সেই নথিগুলি হয়তো বিষক্রিয়ার প্রমাণ দিতে পারে, অথবা নিছক প্রশাসনিক উদ্বেগ বা কূটনৈতিক অস্বস্তিও প্রকাশ করতে পারে। যতক্ষণ না সেগুলি খোলা হচ্ছে, ততক্ষণ দুটি সম্ভাবনাই খোলা থাকছে – সরকারিভাবে হার্ট অ্যাটাক এবং তদন্তের অসম্পূর্ণতা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন: লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর হত্যা কি প্রমাণিত?

উত্তর: না। সরকারি নথি এবং সংসদীয় বিবৃতি অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক। হত্যা সংক্রান্ত কোনও ফরেনসিক বা আদালতের রায় নেই।

প্রশ্ন: তাঁর কি ময়নাতদন্ত হয়েছিল?

উত্তর: বিদেশ মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের RTI উত্তর অনুযায়ী, সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ভারতে কোনও মেডিকো-লিগ্যাল পোস্টমর্টেমের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন: তাঁর মুখ নীল হয়ে যাওয়া কি বিষক্রিয়ার প্রমাণ?

উত্তর: পরিবার এমনটাই মনে করে। তবে, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এটিকে দেহ সংরক্ষণের (embalming) প্রক্রিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ভিসেরা পরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র মুখের রঙ দেখে বিষক্রিয়া নিশ্চিত করা যায় না।

প্রশ্ন: কেজিবি কেন রাঁধুনিকে আটক করেছিল?

উত্তর: আটককৃত ওয়েটার सत्तारোভের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে বিষক্রিয়ার সন্দেহ ছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। সন্দেহ কোনও প্রমাণ নয়।

প্রশ্ন: ফাইলগুলি কেন এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে?

উত্তর: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) একটি নির্দিষ্ট নথিকে বৈদেশিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার ধারা উল্লেখ করে প্রকাশ করতে নারাজ। যদিও CIC ২০১৮ সালে এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছিল, সম্পূর্ণ তথ্য এখনও জনসমক্ষে আসেনি।

দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি সরকারি বিবৃতি, সংসদীয় রেকর্ড, তথ্য জানার অধিকার (RTI) এবং তথ্য কমিশনের (CIC) আদেশ এবং তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি কোনও হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে না, আবার পরিবারের উদ্বেগকেও উড়িয়ে দেয় না। চলচ্চিত্র, হোয়াটসঅ্যাপ ফরওয়ার্ড বা অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত ‘সিআইএ ফাইল’-কে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। ঐতিহাসিক নথি চাওয়ার অধিকার থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু মনগড়া ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

विज्ञापन

🆕 সম্পর্কিত পোস্ট

ঘুমের মধ্যে চিৎকার ও কথা বলা: এটি কি ভূতের প্রভাব নাকি ঘুমের সমস্যা?

ঘুমের মধ্যে চিৎকার ও কথা বলা: এটি কি ভূতের প্রভাব নাকি ঘুমের সমস্যা?

Mind
ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিদের মনস্তত্ত্ব: কেন তারা ঈর্ষা করে এবং কীভাবে মোকাবিলা করবেন

ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিদের মনস্তত্ত্ব: কেন তারা ঈর্ষা করে এবং কীভাবে মোকাবিলা করবেন

Mind
অনলাইন গুজব কেন দ্রুত ছড়ায় এবং তা চেনার সহজ উপায়

অনলাইন গুজব কেন দ্রুত ছড়ায় এবং তা চেনার সহজ উপায়

Mind
সম্রাট অশোকের নয় অজ্ঞাত পুরুষ: ইতিহাস না কি কল্পকাহিনী?

সম্রাট অশোকের নয় অজ্ঞাত পুরুষ: ইতিহাস না কি কল্পকাহিনী?

Mind
विज्ञापन
ম্যান্ডেলা এফেক্ট: কেন আমরা একই ভুল স্মৃতি মনে রাখি?

ম্যান্ডেলা এফেক্ট: কেন আমরা একই ভুল স্মৃতি মনে রাখি?

Mind
স্বপ্নের আসল মানে কী? জানুন স্বপ্নের বিজ্ঞান

স্বপ্নের আসল মানে কী? জানুন স্বপ্নের বিজ্ঞান

Mind
মন শান্ত করার উপায়: অস্থির মুহূর্তে ছোট ও বাস্তব অনুশীলন

মন শান্ত করার উপায়: অস্থির মুহূর্তে ছোট ও বাস্তব অনুশীলন

Mind
ওভারথিংকিং কমাবেন কীভাবে? একই চিন্তা ঘুরতে থাকলে সহজ পদক্ষেপ

ওভারথিংকিং কমাবেন কীভাবে? একই চিন্তা ঘুরতে থাকলে সহজ পদক্ষেপ

Mind
विज्ञापन
Vivek Hardaha Written by: Writer, YouTuber and tool builder · Madhya Pradesh

Vivek has been online since 2012 and has worked since 2014 across YouTube, blogs and news platforms. He holds an M.Sc. in Computer Science and an M.A. in Sociology. On Vista Hub he writes practical, plain-language guides on tech, money, health, farming and festivals.

Vista Hub এখন WhatsApp-এ নতুন পোস্ট আর ফ্রি টুলসের আপডেট সরাসরি WhatsApp-এ পান। যোগ দিন →

🆕 নতুন পোস্ট

সব দেখুন →