Skip to content

শ্রী হনুমান চালিসা: সম্পূর্ণ পাঠ, অর্থ, নিয়ম ও উপকারিতা

Faith Vivek Hardaha

শ্রী হনুমান চালিসা পাঠরত হনুমান জীর ছবি

শ্রী হনুমান চালিসা: সম্পূর্ণ পাঠ, অর্থ, নিয়ম ও উপকারিতা

কলিযুগে যদি কোনো দেবতা সবচেয়ে দ্রুত প্রসন্ন হন, তবে তিনি হলেন সংকটমোচন হনুমান জী। ভগবান শিবের একাদশ রুদ্রাবতার, পবনপুত্র হনুমান জী-কে বল, বুদ্ধি ও বিদ্যার প্রতীক মনে করা হয়। তাঁর ভক্তিতে জীবনের সকল কষ্ট দূর হয় এবং মনস্কামনা পূর্ণ হয়। শ্রী হনুমান চালিসা (Hanuman Chalisa) गोस्वामी তুলসীদাস জী দ্বারা রচিত এক অলৌকিক প্রার্থনা, যা পাঠ করলে মানুষের জীবনের সকল সংকট, রোগ ও ভয় দূর হয়ে যায়। এটি কেবল ৪০টি চৌপাইয়ের সংগ্রহ নয়, বরং স্বয়ং হনুমান জীর কৃপা লাভের এক সহজ পথ। এই প্রবন্ধে আমরা সম্পূর্ণ হনুমান চালিসার পাঠ (Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali), এর গভীর অর্থ, পাঠের নিয়ম, अद्भुत উপকারিতা এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যের উপর আলোকপাত করব।

হনুমান চালিসার পরিচয় ও ইতিহাস

‘চালিসা’ শব্দের অর্থ ‘চল্লিশ’ (৪০)। হনুমান চালিসায় ৪০টি চৌপাই রয়েছে, যার মাধ্যমে ভগবান হনুমানের গুণাবলী, শক্তি এবং তাঁর জীবনের প্রধান কার্যাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। এটি মূলত অবধী ভাষায় রচিত, যা তুলসীদাস জীর সময়ে সাধারণ মানুষের ভাষা ছিল, তাই এটি সকলের কাছে সহজবোধ্য ছিল। এর প্রতিটি শব্দ শক্তি ও ইতিবাচকতায় পরিপূর্ণ, যা পাঠকারীকে শান্তি প্রদান করে।

কথিত আছে, হনুমান চালিসার রচনা মুঘল সম্রাট আকবরের কারাবাসে হয়েছিল। যখন আকবর তুলসীদাস জী-কে বন্দী করেন, তখন তিনি ৪০ দিন ধরে একনিষ্ঠ মনে হনুমান চালিসা রচনা করেন। কথিত আছে, এই সময়েই বানরদের একটি বিশাল সেনাদল ফতেহপুর সিক্রিতে আক্রমণ করে, যা তুলসীদাস জীর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। এর পরেই আকবর তুলসীদাস জী-কে মুক্তি দেন।

শ্রী হনুমান চালিসা (সম্পূর্ণ পাঠ)

এখানে শ্রী হনুমান চালিসার সম্পূর্ণ পাঠ দেওয়া হল:

॥ দোহা ॥

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজনী, নিজ মন মুকুর সুধারি।
বরনউঁ রঘুবর বিমল যশ, জো দায়ক ফল চারি॥
বুদ্ধিহীন তনু জানি কে, সুমিরৌঁ পবন কুমার।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহি মোহি, হরহু ক্লেশ বিকার॥

॥ চৌপাই ॥

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর। জয় কপীশ তিহুঁ লোক उजागर॥
রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনি পুত্র পবনসুত নামা॥
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী॥
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেসা। কানন কুন্ডল কুঞ্চিত কেসা॥
হাত বজ্র অর ধ্বজা বিরাজৈ। কাঁধে মূঞ্জ জনেউ সাজৈ॥
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহ জগৎ বন্ধন॥
বিদ্যাবান গুনি অতি চতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥
প্রভু চরিত্র শুনিবে কো রসিয়া। রাম লখন সিতা মন বসিয়া॥
সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হিঁ দেখাওয়া। বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জারাওয়া॥
ভীম রূপ ধরি অসুর সংহারে। रामचंद्र কে কাজ সংवारे॥
লায় संजीवনী লখন জিয়াএ। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লাএ॥
রঘুপতি কীन्ही বহুত বড়াই। তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাই॥
সহস বদন তুমহরো যশ গাওৈঁ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লাগাওৈঁ॥
সনকাদিক ব্রহ্মা দিমুনিসা। নারদ সারদ সহিত অহিসা॥
জম কুবের দিগপাল জাঁহা তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে॥
তুম উপকার সুগ্রীবহিঁ কীन्हा। রাম মিলায় রাজ পদ দীन्हा॥
তুমহরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লঙ্কেশ্বর भए সব জগ জানা॥
যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লাঙ্ঘি গএ অচরজ নাহী॥
দুর্গম কাজ जगत কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে॥
রাম দুয়ারে তুম রাখवारे। হোত ন আজ्ञা বিনু পৈসারে॥
সব সুখ লহে তুম্হারি সরনা। তুম রখক কঁহু কো ডরনা॥
আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তিনো লোক হাঁক তें কাঁपै॥
ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ आवा। মহাবীর জব নাম সুনাওয়া॥
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমান বীরা॥
সংকট তें হনুমান छुड़ावै। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিন কে কাজ সকল তুম সাজা॥
ঔর মনোরথ জো কোই লাবৈ। সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ॥
চঁহু যুগ পরতাপ তুম্হারা। হ্যায় পরসিদ্ধ जगत উজিয়ারা॥
সাধু সন্ত কে তুম রাখवारे। অসুর নিদন রাম দুলারে॥
অষ্ট সিদ্ধি নউ নিধি কে দাতা। অস বর দীন জানকী মাতা॥
রাম রসায়ন তুম্হরে পাসা। সদা রঁহো রঘুপতি কে দাসা॥
তুম্হরে ভজন রাম কো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥
অন্ত কাল রঘুবর পুর জাই। জঁহা জন্ম হরি ভক্ত કહ라이॥
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরই। হনুমত সেঈ সর্ব সুখ করই॥
সংকট কঁটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা॥
জয় জয় জয় হনুমান গোসাঈঁ। কৃপা করহু গুরুদেব কী নাঈঁ॥
জো শত বার পাঠ কর কোই। ছূটহি বন্දි মহ সুখ হোই॥
জো ইহ পড়ৈ হনুমান চালিসা। হোয় সিদ্ধ সাখী গৌরীসা॥
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীजै নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা॥

॥ দোহা ॥

পবন তনয় সংকট হরণ, মঙ্গল মূরতি রূপ।
রাম লখন সিতা সহ, হৃদয় বসহু সুর ভূপ॥

হনুমান চালিসা পাঠের নিয়ম ও পদ্ধতি

হনুমান চালিসার পূর্ণ ফল পেতে হলে কিছু বিশেষ নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে পাঠ করা উচিত:

  • পবিত্রতা: পাঠ শুরুর আগে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করুন। মনকে শান্ত ও পবিত্র রাখুন।
  • স্থান: একটি শান্ত ও পরিষ্কার স্থান নির্বাচন করুন। হনুমান জীর মূর্তি বা ছবির সামনে বসা উত্তম।
  • দিক: পাঠ করার সময় মুখ পূর্ব দিকে রাখুন।
  • প্রদীপ ও নৈবেদ্য: একটি প্রদীপ জ্বালান (ঘি বা তেলের) এবং হনুমান জীকে ফুল, ধূপ, ও সিঁদুর অর্পণ করুন। বুন্দি লাড্ডু বা গুড়-ছোলা ভোগ হিসেবে দেওয়া অত্যন্ত শুভ।
  • সংকল্প: পাঠ শুরুর আগে আপনার মনস্কামনার সংকল্প নিন।
  • উচ্চারণ: চালিসার পাঠ স্পষ্ট ও সঠিক উচ্চারণে করুন। তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি চৌপাইয়ের অর্থের উপর মনোযোগ দিন।
  • পাঠের সংখ্যা: প্রতিদিন একবার, সাতবার, এগারোবার বা ১০৮ বার পাঠ করা অত্যন্ত শুভ। মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমান চালিসা পাঠের জন্য বিশেষভাবে ফলপ্রসূ।
  • ব্রহ্মচর্য: দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ করলে (যেমন ৪০ দিনের ব্রত), ব্রহ্মচর্য পালন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হনুমান চালিসা পাঠের অলৌকিক উপকারিতা

নিয়মিত হনুমান চালিসা পাঠ করলে জীবনে অসংখ্য উপকার পাওয়া যায়:

  • ভয় ও সংকট থেকে মুক্তি: এই চালিসা সকল প্রকার ভয়, ভূত-পিশাচ बाधा এবং অজানা সংকট থেকে রক্ষা করে। হনুমান জী ‘সংকটমোচন’ নামে পরিচিত, তাঁর নামে বড় বড় সংকটও দূর হয়।
  • রোগ নিরাময়: ‘নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা, জপত নিরন্তর हनुমত বীরা’ – এই চৌপাই অনুসারে, হনুমান চালিসা পাঠে শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে মুক্তি মেলে।
  • মানসিক শান্তি ও একাগ্রতা: নিয়মিত পাঠে মন শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।
  • আত্মবিশ্বাস ও সাহস বৃদ্ধি: হনুমান জী বল ও সাহসের প্রতীক। তাঁর গুণাবলী স্মরণ করলে ব্যক্তির মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীকতা আসে।
  • গ্রহ দোষের প্রতিকার: জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, হনুমান চালিসা পাঠ করলে শনি, মঙ্গল এবং রাহু-কেতুর মতো গ্রহের অশুভ প্রভাব কমে।
  • ইচ্ছা পূরণ: सच्चे মনে করা প্রার্থনা ও চালিসা পাঠ ব্যক্তির সকল শুভ ইচ্ছা পূরণ করে।
  • নकारात्मक শক্তির বিনাশ: এই চালিসা বাড়ি ও চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।
  • অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধির প্রাপ্তি: বিশ্বাস করা হয় যে, হনুমান চালিসা পাঠ করলে অষ্ট সিদ্ধি (অणिमा, মহিমা, গরিমা, লঘিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাম্য, ঈশিত্ব ও বশিত্ব) এবং নব নিধি (পদ্ম, महापদ্ম, শঙ্খ, মকর, कच्छপ, মুকুন্দ, কুন্দ, নীল ও খরব) লাভের শক্তি পাওয়া যায়।

হনুমান চালিসার অর্থ

হনুমান চালিসার প্রতিটি শব্দ গভীর অর্থ বহন করে, যা আমাদের হনুমান জীর গুণাবলী ও ভক্তির পথে চালিত করে।

  • প্রারম্ভিক দোহা: এটি গুরু বন্দনা দিয়ে শুরু হয়, যেখানে তুলসীদাস জী তাঁর গুরুর চরণের ধূলি দিয়ে মনের আয়না পরিষ্কার করার এবং শ্রী রামের নির্মল যশ বর্ণনা করার প্রার্থনা করেন, যা ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ – এই চার ফল প্রদান করে। তিনি পবনপুত্রকে বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা প্রদানের এবং সমস্ত ক্লেশ দূর করার নিবেদন করেন।
  • হনুমান জীর মহিমা: চৌপাইগুলিতে হনুমান জীকে জ্ঞান, গুণ ও শক্তির সাগর বলা হয়েছে। তাঁকে রামদূত, অঞ্জনি পুত্র ও পবনসুত নামে ডাকা হয়। তাঁর অতুলনীয় বল, বীরত্ব ও সংকটমোচন রূপের প্রশংসা করা হয়েছে।
  • তাঁর কার্যাবলী: চালিসায় হনুমান জীর প্রধান কার্যাবলী বর্ণিত হয়েছে, যেমন – সীতাদেবীকে রামের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, লঙ্কা দহন করা, সঞ্জীবনী বুটি এনে লক্ষ্মণকে জীবনদান দেওয়া এবং রাম-রাবণ যুদ্ধে ভগবান রামকে সহায়তা করা।
  • উপসংহার: শেষ দোহাতে, হনুমান জীর কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি তাঁর মঙ্গলময় রূপে শ্রী রাম, লক্ষ্মণ ও সীতাসহ আমাদের হৃদয়ে বাস করেন, আমাদের সকল সংকট দূর করেন এবং আমাদের সুমতি প্রদান করেন।

উপসংহার

শ্রী হনুমান চালিসা কেবল একটি ধর্মীয় পাঠ নয়, এটি একটি শক্তিশালী মন্ত্র যা জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। गोस्वामी তুলসীদাস জী রচিত এই অমূল্য সৃষ্টি আমাদের হনুমান জীর ভক্তি, শক্তি ও নিঃস্বার্থ সেবার পথ দেখায়। এর নিয়মিত পাঠে কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতিই হয় না, জাগতিক জীবনের কষ্টও দূর হয়। তাই, আজ থেকেই হনুমান চালিসার পাঠকে আপনার দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন এবং পবনপুত্র হনুমান জীর অপার কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ করুন। জয় সিয়ারাম! জয় হনুমান!

Share Your Opinion

Comments are closed on this post.

More on Site