ফুলজ (Fullz) কী? চুরি হওয়া ডেটার ভয়ংকর জগৎ ও তার ফাঁদ

ফুলজ: চুরি হওয়া পরিচয়পত্রের প্যাকেজ ও তার ক্ষতি

ফুলজ (Fullz) শব্দের সহজ অর্থ

চলচ্চিত্রের পর্দায় আমরা প্রায়শই দেখি, কোনো ব্যক্তির পুরো নাম, ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ইত্যাদি একটি ফাইলে দেখানো হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী গল্প এগিয়ে যাচ্ছে। বাস্তব জীবনে এই ধরনের তথ্যের প্যাকেজকেই অপরাধ জগতের ভাষায় ‘ফুলজ’ (Fullz) বলা হয়। এটি কোনো অ্যাপ বা সরকারি ফর্ম নয়, বরং এটি একটি অপরাধমূলক পরিভাষা যা একজন ব্যক্তির ‘সম্পূর্ণ তথ্য’ (full information) বোঝায়।

विज्ञापन

ফ্রড-গ্লসারি এবং ব্যাঙ্ক-সিকিউরিটি সংক্রান্ত নথিতে ফুলজের সংজ্ঞা প্রায় একই রকম থাকে: একজন ব্যক্তির নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং সরকারি পরিচয়পত্র নম্বর। এর সাথে প্রায়শই ব্যাঙ্ক বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ফোন নম্বর, ইমেল আইডি এবং কখনও কখনও সিকিউরিটি প্রশ্নের উত্তরও যুক্ত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর (Social Security Number) হয়। ভারতে এর সমতুল্য হল আধার নম্বর, প্যান নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

এখানে মূল বিষয়টি হল তথ্যের ‘সম্পূর্ণতা’। শুধুমাত্র একটি কার্ড নম্বর দিয়ে হয়তো কিছু কেনাকাটা করা সম্ভব, কিন্তু ফুলজ প্যাকেজ একজন ব্যক্তিকে অন্য কারো সামনে ‘আমিই সেই ব্যক্তি’ বলে পরিচয় দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, লোন নেওয়া, ট্যাক্স রিফান্ড দাবি করা বা পুরনো অ্যাকাউন্টের দখল নেওয়া সম্ভব। এই কারণেই এটি শুধুমাত্র কার্ড চুরির চেয়ে আলাদা একটি ক্যাটাগর।

যদিও ‘ফুলজ’ শব্দটি বহুবচনের মতো শোনায়, তবে কথ্য ভাষায় একজন ব্যক্তির একটি সম্পূর্ণ তথ্য প্যাকেজকেও ‘একটি ফুলজ’ বলা হয়। এই প্যাকেজটি কিন্তু কোনো জাদু বলে তৈরি হয় না। ডেটা ব্রিচ (data breach), ফিশিং (phishing), গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হওয়া ফাইল অথবা বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য একত্রিত করে এটি তৈরি করা হয়। তথ্য একবার ফাঁস হয়ে গেলে তা বহু হাতে কপি হতে পারে। কার্ড বাতিল করা গেলেও, জন্ম তারিখ এবং সরকারি পরিচয়পত্র নম্বর সহজে ‘রিসেট’ করা যায় না।

ডাম্পস (Dumps), কার্ড (Card) এবং ফুলজ (Fullz) — তিনটি ভিন্ন জিনিস

চুরি হওয়া পরিচয়পত্রের প্যাকেজ ক্ষতিকারক, এটি কোনো মার্কেটপ্লেস নয়

আমরা প্রায়শই ‘ডেটা লিক’ (data leak) শব্দটা শুনে থাকি। কিন্তু এর আড়ালে তিনটি ভিন্ন ধরনের পণ্য লুকিয়ে থাকে এবং সেগুলোর ক্ষতির মাত্রাও ভিন্ন হয়:

  • ডাম্পস (Dumps): এটি কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ থেকে পাওয়া কাঁচা ডেটা। এর ব্যবহার সীমিত, যেমন – নকল কার্ড তৈরি করা বা সোয়াইপ-ভিত্তিক প্রতারণা।
  • সিভিভি প্যাক (CVV Pack): এতে সাধারণত কার্ড নম্বর, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং কার্ডের পিছনে থাকা তিন অঙ্কের CVV কোড থাকে। এটি অনলাইন কেনাকাটার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • ফুলজ (Fullz): এটি উপরের দুটি থেকে অনেক বড়, কারণ এতে শুধু পেমেন্টের তথ্য নয়, বরং ব্যক্তির সম্পূর্ণ পরিচয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটি চুরি হওয়া কার্ড ব্যাঙ্ক সহজেই বাতিল করে নতুন নম্বর দিতে পারে, কিন্তু একজন ব্যক্তির পরিচয় সহজে বদলানো যায় না। নাম + জন্ম তারিখ + সরকারি নম্বর + পুরনো ঠিকানা – এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে অনলাইন বা ফোনে কেওয়াইসি (KYC) সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব। এই কারণে নিরাপত্তা বিষয়ক লেখায় ফুলজকে ‘ব্যক্তি সেজে যাওয়া’ বলা হয়, শুধু ‘তার কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা’ নয়।

আরেকটি পার্থক্য হল, কার্ড চুরি হলে তা স্টেটমেন্টে দ্রুত ধরা পড়ে। কিন্তু পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে খোলা লোন, নতুন সিম কার্ড যুক্ত অ্যাকাউন্ট বা অন্য শহরে কেওয়াইসি করা হলে তা সিভিল (CIBIL) বা ট্যাক্স রেকর্ডে ধরা পড়তে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ, ক্ষতিটা দেরিতে প্রকাশ পায়, যা নিজেই একটি বড় ক্ষতি।

विज्ञापन

ক্ষতি কোথায় হয় — শুধু টাকা নয়

প্রতারণার ধরণগুলো সাধারণত স্পষ্ট থাকে:

  • আপনার নামে নতুন অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট লাইন খোলা।
  • আপনার পুরনো ব্যাঙ্ক বা ইমেল অ্যাকাউন্টের দখল নেওয়া।
  • আপনার ট্যাক্স রিফান্ড অন্য কেউ নিয়ে নেওয়া।
  • আপনার নামে লোন বা কিস্তিতে কোনো গ্যাজেট কেনা।
  • আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিল অন্যের বীমা বা আইডি ব্যবহার করে পরিশোধ করা।
  • সিন্থেটিক আইডেন্টিটি (Synthetic Identity): এটি একটি বড় সমস্যা। এখানে আসল সরকারি নম্বরের সাথে তৈরি করা নাম-ঠিকানা জুড়ে দিয়ে একটি ‘নতুন ব্যক্তি’ তৈরি করা হয়, যা কাগজে-কলমে সঠিক মনে হলেও আসলে তা প্রতারণা। এটি বছরের পর বছর ধরে ক্রেডিট স্কোরকে প্রভাবিত করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের একটি গবেষণায় সিন্থেটিক আইডেন্টিটিকে একটি দ্রুত বর্ধনশীল আর্থিক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতেও কেওয়াইসি যদি মূলত কাগজ এবং ওটিপি-ভিত্তিক হয়, তবে চুরি হওয়া সম্পূর্ণ তথ্য এই দুর্বলতার সুযোগ নেয়। পরে আপনি জানতে পারেন যে আপনার প্যান বা আধার নম্বরের সাথে যুক্ত কোনো ঋণ আপনি নেননি।

দ্বিতীয় ক্ষতিটি হল মানসিক এবং প্রশাসনিক। ব্যাঙ্ক যাওয়া, এফআইআর (FIR) করা, বিভিন্ন পোর্টালে অভিযোগ জানানো, ক্রেডিট ব্যুরোর সাথে যোগাযোগ রাখা – এই সব কাজে মাসের পর মাস সময় লেগে যেতে পারে।

তৃতীয় ক্ষতি হল ‘পুনরায় প্রতারিত হওয়া’ (Recovery Scam)। যারা একবার প্রতারিত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে অনেক সময় ভুয়া অফিসার বা সংস্থা যোগাযোগ করে এবং বলে যে তারা হারানো টাকা ফেরত পাইয়ে দেবে। এর জন্য তারা আবার টাকা চায়। এক্ষেত্রে চুরি হওয়া ফোন নম্বর এবং পুরনো তথ্য ব্যবহার করা হয়।

তথ্য: ফুলজ (Fullz) হল ‘ফুল ইনফরমেশন’ (full information) শব্দের অপরাধমূলক স্ল্যাং। এর মধ্যে সাধারণত নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, সরকারি পরিচয়পত্র নম্বর এবং প্রায়শই ব্যাঙ্ক/কার্ডের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি কার্ড-ভিত্তিক চুরি (ডাম্প/সিভিভি) থেকে আলাদা।

विज्ञापन

ভারতে পরিচয় চুরির ঘটনা তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৬সি (Section 66C of the IT Act) এর আওতায় পড়ে। আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে আপনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (National Cyber Crime Reporting Portal) বা হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ (1930) এ যোগাযোগ করতে পারেন।

ভারতে এই ধরনের প্যাকেজ কেমন হয়?

ভারতে এই তথ্যের প্যাকেজকে সাধারণত ‘ফুলজ’ বলা হলেও, এর উপাদানগুলি দেশীয় হয়। যেমন: নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, আধার নম্বর, প্যান নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি (IFSC) কোড, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, এবং কখনও কখনও পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান কপি। এই সব তথ্য একত্রিত হলে তা একজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ পরিচয় তৈরি করে।

পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা সহজ হলেও, আধার এবং প্যান নম্বর সহজে রিসেট করা যায় না। তাই ডেটা লিক হওয়ার পর শুধু ‘নেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড বদলে নেওয়া’ যথেষ্ট নয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে একটি ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda) সংক্রান্ত ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক এবং অভ্যন্তরীণ ফাইল অনলাইনে ফাঁস হয়েছে, যার মধ্যে আধার এবং অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য ছিল। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে এটি একটি কর্মীর ইমেল অ্যাকাউন্ট থেকে অননুমোদিত অ্যাক্সেসের কারণে ঘটেছে এবং মূল ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে কোনো প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এই ধরনের ফাঁস হওয়া তথ্যও ফিশিং এবং ভুয়া কলের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

বিভিন্ন সময়ে ভুয়া কেওয়াইসি (KYC) নথি তৈরির চক্রও ধরা পড়েছে। কিছু ওয়েবসাইট সরকারি পোর্টালের মতো দেখতে হয় এবং সেখানে ভুয়া আধার/প্যান কার্ড তৈরির টেমপ্লেট পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদ সাইবার পুলিশ আধার-লিঙ্কড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং এআই (AI) দ্বারা তৈরি মুখ ব্যবহার করে কেওয়াইসি জালিয়াতির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল। মূল প্যাটার্নটি হল: পরিচয়ের অংশ + মোবাইল নম্বর নিয়ন্ত্রণ + কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার দুর্বলতা। ফুলজ হল এই সব তথ্যকে একটি ফাইলে একত্রিত করা।

মিথ: ডার্ক ওয়েবে ‘সম্পূর্ণ মানুষ’-এর দোকান

সিনেমায় দেখানো নিয়ন আলোয় ঝলমলে দোকানের মতো ডার্ক ওয়েবে ‘ফুলজ’ কেনা-বেচার ছবি বাস্তব নয়। চুরি হওয়া ডেটা বিভিন্ন ফোরাম, চ্যাট গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত চ্যানেলে আদান-প্রদান হয়। তবে, সব লিস্টিং আসল বা তাজা নাও হতে পারে। অনেক সময় পুরনো ডেটা বা প্রতারকদের পাতা ফাঁদও থাকে।

মিথ ২: ‘আমার ডেটা বিক্রি হয়ে গেছে, আমি কি সঙ্গে সঙ্গে সর্বস্বান্ত হয়ে যাব?’ – এমনটা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে লেনদেন দ্রুত ধরা পড়ে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সিন্থেটিক আইডেন্টিটির মতো প্রতারণা ধরা পড়তে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। আবার অনেক সময় ডেটা অসম্পূর্ণ বা পুরনো হওয়ায় কোনো ক্ষতি নাও হতে পারে।

মিথ ৩: ‘ডার্ক ওয়েবে সব সস্তা ও আসল পাওয়া যায়।’ – এটিও একটি ভুল ধারণা। অনেক সময় এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে প্রতারকরা ক্রেতাদের ঠকানোর জন্য ভুয়া বিজ্ঞাপন দেয়।

মিথ ৪ (ভারতে বেশি প্রচলিত): ‘আধার নম্বর ফাঁস হয়ে গেলেই সব শেষ!’ – শুধুমাত্র আধার নম্বর ফাঁস হয়ে গেলেই সব শেষ হয়ে যায় না। আধার বায়োমেট্রিক লক, অথেনটিকেশন হিস্ট্রি এবং ব্যাঙ্কের নিজস্ব নিরাপত্তা স্তর রয়েছে। তবে, আধার নম্বর, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং অন্যান্য তথ্যের সম্পূর্ণ প্যাকেজ ফিশিংয়ের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

আইনি নথি অনুযায়ী: ব্রিচের পর কী বদলায় না?

কার্ড চুরির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক নতুন কার্ড নম্বর ইস্যু করে দেয়। কিন্তু পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে, যেমন সরকারি পরিচয়পত্র নম্বর, তা সাধারণত একই থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর পরিবর্তনের নিয়ম খুবই সীমিত। ভারতেও আধার বা প্যান নম্বর সহজে পরিবর্তন করা যায় না। তাই একবার ফাঁস হওয়া সম্পূর্ণ তথ্য প্যাকেজ বারবার অপব্যবহারের ঝুঁকিতে থাকে।

আইনি অভিযোগ এবং ক্লাস-অ্যাকশন মামলাগুলিতে এখন ‘ফুলজ প্যাকেজ’ শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে নাম, ঠিকানা, কার্ডের তথ্য, সরকারি আইডি এবং জন্ম তারিখ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ক্ষতির আরেকটি দিক হল, অনেক দেশে আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির লেনদেনের রেকর্ড চাওয়ার অধিকার রয়েছে। ভারতে অভিযোগ জানানোর পথ হল ব্যাঙ্ক, হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ এবং স্থানীয় সাইবার ক্রাইম থানা। সিন্থেটিক আইডেন্টিটির ক্ষেত্রে সমস্যা হল, আপনি বলতে পারেন ‘আমি এই লোন নিইনি’, কিন্তু ক্রেডিট ব্যুরোর কাছে একটি ফাইল থাকে যা আংশিকভাবে আপনার এবং আংশিকভাবে তৈরি করা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আবেদনটি যে নকল ছিল তা প্রমাণ করতে হয়। এতে সময়, সুদ এবং পরবর্তী লোনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মতো নীরব ক্ষতি হতে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)

প্রশ্ন: ফুলজ (Fullz) কী?
উত্তর: এটি অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি স্ল্যাং, যা একজন ব্যক্তির প্রায় সম্পূর্ণ পরিচয়পত্র বোঝায় – যেমন নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, সরকারি আইডি, এবং প্রায়শই ব্যাঙ্ক/কার্ডের তথ্য ও যোগাযোগের বিবরণ। এটি শুধুমাত্র কার্ড নম্বরের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

প্রশ্ন: শুধু নাম এবং জন্ম তারিখ দিয়ে কি ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: একা একটি তথ্য কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে পাবলিক রেকর্ড এবং অন্যান্য ফাঁস হওয়া ডেটার সাথে যুক্ত হয়ে এটি একটি প্যাকেজ তৈরি করতে পারে। সম্পূর্ণ প্যাকেজ বেশি বিপজ্জনক কারণ এটি দিয়ে সহজেই পরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা যায়।

প্রশ্ন: ভারতে এর সমতুল্য কী?
উত্তর: আধার + প্যান + ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট + নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর + ঠিকানা – এই সম্মিলিত তথ্যগুলি ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তি’র পরিচয় তৈরি করে। যদিও শব্দটি ইংরেজি থাকতে পারে, এর অপব্যবহার ভারতীয় কেওয়াইসি এবং সিভিল স্কোরের উপর প্রভাব ফেলে।

প্রশ্ন: ডার্ক ওয়েবে গিয়ে আমার ডেটা আছে কিনা চেক করব?
উত্তর: না। এই ধরনের ওয়েবসাইটে যাওয়া উচিত নয়। অনেক ওয়েবসাইট টাকা চেয়েও কোনো তথ্য দেয় না। সন্দেহ হলে, আপনার ব্যাঙ্কের সরকারি হেল্পলাইন, ক্রেডিট রিপোর্ট, আধার অথেনটিকেশন হিস্ট্রি এবং ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (cybercrime.gov.in) বা ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: ফুলজ কেনা বা বেচা কি অপরাধ?
উত্তর: হ্যাঁ, চুরি হওয়া পরিচয়পত্র রাখা, কেনা বা বেচা এবং তা ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট বা লোন খোলা গুরুতর অপরাধ। ভারতে পরিচয় চুরির জন্য তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬সি ধারা প্রযোজ্য। এছাড়া প্রতারণা এবং জালিয়াতির জন্য অন্যান্য ধারাও রয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য (Disclaimer)

এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র পরিচয় চুরি এবং ‘ফুলজ’ শব্দটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। এটি ডার্ক ওয়েবে যাওয়া, চুরি হওয়া ডেটা কেনা, বা অবৈধ কার্যকলাপের জন্য নয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ফি চেয়ে ডেটা চেক বা পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দেওয়া ওয়েবসাইটগুলি প্রায়শই প্রতারণা করে। অবৈধ সামগ্রী বা চুরি হওয়া পরিচয়পত্র অর্জন করা আইনত দণ্ডনীয়। আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে অবিলম্বে ১৯৩০ নম্বরে বা cybercrime.gov.in পোর্টালে রিপোর্ট করুন এবং আপনার ব্যাঙ্কের সাথে যোগাযোগ করুন। Vista Hub কোনো ফাঁস হওয়া ফাইলের তালিকা হোস্ট করে না বা কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করে না।

विज्ञापन

🆕 সম্পর্কিত পোস্ট

সিল্ক রোড: ডার্ক ওয়েবের সেই কুখ্যাত মার্কেটপ্লেসের আসল গল্প

সিল্ক রোড: ডার্ক ওয়েবের সেই কুখ্যাত মার্কেটপ্লেসের আসল গল্প

Tech
রেড রুম বনাম গোর সাইট: আসল পার্থক্য জানুন, ভয় নয়

রেড রুম বনাম গোর সাইট: আসল পার্থক্য জানুন, ভয় নয়

Tech
Casio G-Shock GMC-2500-1A8: দাম, বৈশিষ্ট্য এবং কেনার গাইড

Casio G-Shock GMC-2500-1A8: দাম, বৈশিষ্ট্য এবং কেনার গাইড

Tech
টর ব্রাউজার আসলে কী? এটি কি শুধু অপরাধীদের জন্য?

টর ব্রাউজার আসলে কী? এটি কি শুধু অপরাধীদের জন্য?

Tech
विज्ञापन
আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে কী কী ক্ষতি হতে পারে? জানুন সুরক্ষার উপায়

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে কী কী ক্ষতি হতে পারে? জানুন সুরক্ষার উপায়

Tech
Binance Hack Update: টাকা তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে কী করবেন, আপনার অ্যাকাউন্ট ও অর্থ সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?

Binance Hack Update: টাকা তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে কী করবেন, আপনার অ্যাকাউন্ট ও অর্থ সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?

Tech
ডার্ক ওয়েবে অঙ্গ বিক্রি: সিনেমার পর্দা বনাম বাস্তবতার প্রমাণ

ডার্ক ওয়েবে অঙ্গ বিক্রি: সিনেমার পর্দা বনাম বাস্তবতার প্রমাণ

Tech
অনলাইনে হিটম্যান বিজ্ঞাপনের ফাঁদ: কেন এগুলো সব সময় নকল হয়?

অনলাইনে হিটম্যান বিজ্ঞাপনের ফাঁদ: কেন এগুলো সব সময় নকল হয়?

Tech
विज्ञापन
Vivek Hardaha Written by: Writer, YouTuber and tool builder · Madhya Pradesh

Vivek has been online since 2012 and has worked since 2014 across YouTube, blogs and news platforms. He holds an M.Sc. in Computer Science and an M.A. in Sociology. On Vista Hub he writes practical, plain-language guides on tech, money, health, farming and festivals.

Vista Hub এখন WhatsApp-এ নতুন পোস্ট আর ফ্রি টুলসের আপডেট সরাসরি WhatsApp-এ পান। যোগ দিন →

🆕 নতুন পোস্ট

সব দেখুন →