‘The Nun’ ছবির Valak ডেমন: Hollywood-এর ভয় নাকি আসল সত্যি?
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘The Nun’ ছবিটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। ছবিতে দেখানো কালো পোশাক পরা, পচা চামড়া ও হলুদ চোখের এক ভয়ংকর ‘নান’-কে ‘Valak’ (ভ্যালক) নামের এক শয়তান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ‘The Conjuring’ ইউনিভার্সের এই চরিত্রটি ইন্টারনেটে আতঙ্কের প্রতিশব্দ হয়ে ওঠে। অনেকেই রাতে আলো নিভিয়ে ঘুমাতে ভয় পেতেন এবং গুগলে “Valak Demon Real Story” লিখে সার্চ করতেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, Hollywood আপনাকে কীভাবে বোকা বানাচ্ছে? একজন মিথোলজি বিশ্লেষক এবং গুপ্তবিদ্যার (Occult History) গবেষক হিসেবে যখন আমি এর ইতিহাস ঘাঁটলাম, তখন যা সত্যি সামনে এল, তা Hollywood-এর মুখের উপর এক বিরাট চড়। Hollywood বক্স অফিসে টাকা ছাপানোর জন্য আপনাকে ‘নান’-এর যে রূপ দেখিয়েছে, তার আসল ইতিহাস এবং Valak-এর সঙ্গে দূর-দূর পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। আসুন, আজ Myth vs Reality-র এই লড়াইয়ে ‘The Nun’-এর পিছনের আসল শয়তানকে উন্মোচন করি, যে কোনও রোমানিয়ান আশ্রমে থাকে না বা কোনও খ্রিস্টান ‘নান’-এর পোশাকও পরে না।
Hollywood-এর ২ বিলিয়ন ডলারের ‘ভয়ংকর’ প্রতারণা

জেমস ওয়ান (James Wan) এবং তাঁর ‘The Conjuring’ টিম বক্স অফিসে নিজেদের ভয় বিক্রি করার জন্য একটি মাস্টারমাইন্ড গেম খেলেছিল। তারা দর্শকদের মনে এই ধারণা তৈরি করেছিল যে Valak একটি এমন Demonic Entity (শয়তানি শক্তি) যা চার্চ, পবিত্র স্থান এবং নানদের আত্মাকে দখল (Possession) করে। রোমানিয়ার (Romania) সেই ভয়ংকর আশ্রম, উল্টো করে ঝোলানো ক্রুশ (Inverted Cross) এবং অন্ধকার করিডোরে হামাগুড়ি দেওয়া সেই নান— এ সবই নিছক কল্পনা এবং চিত্রনাট্যকারের মস্তিষ্কপ্রসূত। Hollywood-এর শুধু একটি এমন মুখ দরকার ছিল যা দেখে সাধারণ মানুষ ভয় পাবে এবং যা তারা টি-শার্ট, পোস্টার এবং হ্যালোইন কস্টিউম (Halloween Costumes) হিসেবে বিক্রি করতে পারবে। আর এতে তারা ১০০% সফলও হয়েছে।
Ars Goetia-র রহস্য: তাহলে আসল ‘Valak’ কে?
Valak-এর আসল ইতিহাস জানতে হলে আপনাকে Hollywood-এর চিত্রনাট্য এবং থিয়েটার ছেড়ে ১৭ শতকের বিখ্যাত শয়তানি বই (Grimoire) ‘The Lesser Key of Solomon’-এর দিকে তাকাতে হবে। বিশেষ করে এই বইয়ের প্রথম অংশ, যা ‘Ars Goetia’ নামে পরিচিত, সেখানেই আসল সূত্র লুকিয়ে আছে। এই প্রাচীন এবং ভয়ংকর বইটিতে নরকের (Hell) ৭২ জন সবচেয়ে শক্তিশালী শয়তানের সম্পূর্ণ তালিকা এবং তাদের ডাকার মন্ত্র (Summoning symbols) রয়েছে। এই তালিকায় Valak (যাকে Ualac বা Valu-ও বলা হয়) ৬২ নম্বরে আসে। বই অনুসারে, সে নরকের ‘Great President’ (মহাধ্যক্ষ), যার নির্দেশে ৩৮টি শয়তানি বাহিনী (Legions of demons) কাজ করে। কিন্তু সবচেয়ে বড় টুইস্ট এখানেই: এই বইয়ে Valak-এর রূপ কোনও ভয়ংকর নান নয়! ইতিহাস এবং Demonology অনুসারে, আসল Valak একজন নিষ্পাপ শিশুর (Cherub) রূপে আবির্ভূত হয়, যার পিঠে দেবদূতের (Angels) মতো ডানা থাকে এবং সে একটি ভয়ংকর দুই মাথাওয়ালা ড্রাগনের (Two-headed Dragon) উপর চড়ে বসে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন—একজন নিষ্পাপ শিশু যে ড্রাগনের উপর বসে আছে, কোনও হলুদ চোখের বৃদ্ধা নান নয়!
নরকের ‘কোষাধ্যক্ষ’: Valak-এর আসল শক্তি
ছবিতে দেখানো হয় যে Valak মানুষকে ভয় দেখায়, তাদের জীবন নেয় এবং দেওয়ালের ছায়া হয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু প্রাচীন তন্ত্র এবং গুপ্তবিদ্যা (Occult) অনুসারে, Valak-এর কাজ মানুষকে ভয় দেখানো একেবারেই নয়। যদি কোনও তান্ত্রিক বা জাদুকর Valak-কে তার আচারে (Rituals) ডাকে, তবে সে ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং লোভের (Greed) জন্য ডাকে।
লুকানো ধন খুঁজে বের করা (Finding Hidden Treasures)
Valak-কে নরকের সবচেয়ে দক্ষ কোষাধক্ষ্য এবং নেভিগেটর হিসেবে গণ্য করা হয়। তান্ত্রিকরা (Occultists) তাকে ডাকতেন যাতে সে মাটির নীচে লুকানো প্রাচীন ধন, সোনা এবং মূল্যবান রত্নের সঠিক সন্ধান দিতে পারে।
সাপের উপর ১০০% নিয়ন্ত্রণ (Control over Serpents)
‘Ars Goetia’ অনুসারে, Valak-এর এই ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে যে সে পৃথিবীর যেকোনো বিপজ্জনক সাপ (Serpent) খুঁজে বের করতে পারে এবং তাকে কোনও ক্ষতি না করে জাদুকরের সামনে একটি পোষা প্রাণীর মতো হাজির করতে পারে। অর্থাৎ, যে সত্তা আসলে ধন খুঁজে বের করতে এবং সাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পরিচিত ছিল, তাকে Hollywood একটি ‘ভূতুড়ে নান’-এ পরিণত করেছে!
জেমস ওয়ান (James Wan) কেন ‘নান’-এর রূপ বেছে নিলেন?
যদি ইতিহাসের আসল Valak একজন শিশু হয়, তবে ‘The Conjuring 2’ এবং ‘The Nun’-এ সে নান হল কীভাবে? এর সত্য জানতে হলে আমাদের বিখ্যাত প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর (Paranormal Investigator) লোরেইন ওয়ারেন (Lorraine Warren)-এর বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা বুঝতে হবে। লোরেইন ওয়ারেন ছবির পরিচালক জেমস ওয়ানকে বলেছিলেন যে তার বাড়িতে একটি Dark Entity (অন্ধকার শক্তি) তাকে আক্রমণ করেছিল। লোরেনের কথা অনুযায়ী, সেই শক্তি কোনও নান ছিল না, বরং একটি “Swirling Tornado Vortex” (একটি কালো ঘূর্ণি)-এর মতো ছিল, যার ভিতরে একটি হুডযুক্ত ছায়া (Hooded figure) দাঁড়িয়ে ছিল। জেমস ওয়ান জানতেন যে পর্দায় একটি ‘কালো ঘূর্ণি’ (CGI Tornado) দর্শকদের ভয় দেখাতে পারবে না। তার একটি Physical Character দরকার ছিল যা সরাসরি মানুষের ভয়কে কাজে লাগাবে। যেহেতু লোরেন ওয়ারেনের ‘খ্রিস্টান ধর্মে’ (Christianity) গভীর বিশ্বাস ছিল, তাই জেমস ওয়ান ভেবেছিলেন— “তার বিশ্বাসের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত কী হতে পারে? একটি পবিত্র রূপের শয়তানি সংস্করণ!” আর এখান থেকেই জন্ম হয় একটি ‘Demonic Nun’-এর। Valak নামটি শুধু এজন্যই বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ এটি ‘Ars Goetia’ বইতে পড়তে খুব ভয়ংকর এবং আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল।
পপ কালচার এবং ‘Fear Economy’ (ভয়ের বাজার)
Hollywood-এর কাজ ইতিহাস পড়ানো নয়, বরং Fear Economy (ভয়ের বাজার) চালানো। তারা ভালো করেই জানে যে মানুষ সেই জিনিসকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় যা তার Subconscious Mind (অবচেতন মন)-এর গভীর বিশ্বাসকে (যেমন ঈশ্বর, চার্চ, মন্দির) চ্যালেঞ্জ করে। এমন একজন শয়তান যে চার্চে ঘুরে বেড়ায়, ননের পোশাক পরে এবং খ্রিস্টান ক্রুশকে উল্টে দেয়— এটি একটি নিখুঁত Psychological Horror Recipe। এই ফর্মুলাই ‘The Nun’-কে বক্স অফিসে কোটি কোটি ডলার আয় করে দিয়েছে। আসল মিথোলজিতে Valak সাপের রাজা হোক বা ধন খোঁজার শিশু, Hollywood তাকে চিরতরে একটি ‘Jump-scare Monster’-এ পরিণত করেছে। আর মজার বিষয় হল, ইন্টারনেটের সাধারণ মানুষ কোনও গবেষণা ছাড়াই একেই চূড়ান্ত সত্য (Ultimate Truth) বলে মেনে নিয়েছে।
FAQs
প্রশ্ন ১: ‘The Nun’ ছবিটি কি কোনও সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি?
একেবারেই না। ছবির প্লট ১০০% কাল্পনিক (Fictional)। ছবিটি শুধু প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর লোরেইন ওয়ারেনের একটি ‘কালো ঘূর্ণি’ সম্পর্কিত ভিশন (Vision) থেকে অনুপ্রাণিত, যাকে পরিচালক একটি ভয়ংকর ননের রূপ দিয়েছিলেন যাতে ছবিটি আরও বেশি ভয়ের মনে হয়।
প্রশ্ন ২: Valak নামে কি সত্যিই কোনও শয়তান আছে?
Valak-এর উল্লেখ ১৭ শতকের তান্ত্রিক এবং গুপ্তবিদ্যার বই ‘Ars Goetia’-তে পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে সে কোনও ‘নান’ নয়, বরং একটি ডানাযুক্ত শিশু যে ড্রাগনের উপর চড়ে বসে এবং ধন খোঁজার কাজ করে। Hollywood শুধু এই নামটি ব্যবহার করেছে, তার আসল চরিত্রকে নয়।
প্রশ্ন ৩: রোমানিয়ার (Romania) ‘Cârța Monastery’ কি সত্যিই ভূতুড়ে?
ছবিতে যে রোমানিয়ান আশ্রমকে (Abbey of St. Carta) ভয়ের কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেটি আসলে একটি অত্যন্ত শান্ত এবং ঐতিহাসিক স্থান। সেখানে কোনও ভূতুড়ে নান বা শয়তানি ঘটনার কোনও রেকর্ড নেই। Hollywood শুধু সেই প্রাচীন স্থাপত্যের (Gothic Architecture) সুবিধা নিয়েছে।
প্রশ্ন ৪: Valak-এর আসল রূপ কেমন?
১৭ শতকের ‘Ars Goetia’ বই অনুসারে, Valak-এর আসল রূপ হলো একজন নিষ্পাপ শিশু যার পিঠে ডানা আছে এবং সে একটি দুই মাথাওয়ালা ড্রাগনের উপর চড়ে বসে। সে নরকের একজন মহাধ্যক্ষ এবং গুপ্তধন খুঁজে বের করতে ও সাপের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পরিচিত।
প্রশ্ন ৫: Hollywood কেন Valak-কে ননের রূপে দেখাল?
পরিচালক জেমস ওয়ান লোরেইন ওয়ারেনের একটি ভিশন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি রূপ তৈরি করতে যা মানুষের গভীর বিশ্বাসকে আঘাত করে। যেহেতু লোরেনের খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাস ছিল, তাই তিনি একটি ‘শয়তানি নান’-এর ধারণা তৈরি করেন, যা দর্শকদের মনে ভয় তৈরি করতে সক্ষম হয়।
Disclaimer: এই আর্টিকেলটি ঐতিহাসিক নথি, Demonology-র ইতিহাস এবং পপ কালচারের বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে লেখা। কোনও প্রকার কুসংস্কার বা গুপ্তবিদ্যার প্রচার এর উদ্দেশ্য নয়। Hollywood-এর তৈরি করা ‘ভুল ভয়’ (Fake Fear) উন্মোচন করাই এর মূল লক্ষ্য।